📢 Telegram-এ যুক্ত হন

পদাতিক বাংলা

বাংলা ভাষার প্রিয় কন্টেন্টের ঠিকানা

গল্প - Article 20 : প্রথম পর্ব- জনতার হাতে আইন

গল্প - Article 20 :  প্রথম পর্ব- জনতার হাতে আইন
প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব
Disclaimer: এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সমাজে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অমানবিক ঘটনা এবং মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার একটি সাহিত্যিক প্রতিফলন মাত্র। লেখক কোনোভাবেই আইন হাতে তুলে নেওয়া বা শারীরিক সহিংসতাকে সমর্থন করেন না।

চারিদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে আওয়াজ। " উই ওয়ান্ট জাস্টিস " । কারণ ? আবার একটা মহিলাদের ওপর নারকীয় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্ত এবারের গল্পটা অনেকটা আলাদা। দিল্লির নির্ভয়া , আর জি করের অভয়ার পর এবার কদমপুরের গৌরী।

কুড়ি দিন কেটে গেছে। গৌরী কোমায়। নৃশংস অত্যাচারের পর এখনও ঘুমিয়ে আছে । আর জেগে ওঠেনি। সারাদিন কানের চারপাশে মেশিনের শব্দ। ICU এর তীব্র আওয়াজ ভেদ করে ভেসে আসছে দুটো রাক্ষসের উন্মত্ত হাসি। আর সেই হাসির শব্দের ওপরে সারা ভারত জুড়ে চিৎকার, "জাস্টিস ফর গৌরী"। একটা স্বপ্নাচ্ছন্ন জগৎ।



চোখ বন্ধ করে গৌরী মনে করছে তার ছোটবেলার কথা । অনাথ আশ্রমে বেড়ে ওঠার কথা। কুড়ি বছর আগে তাকে তীব্র শীতে শিশির ভেজা ঘাসে কাঁথা জড়িয়ে রেখে গিয়েছিল তার মা। অনাথ আশ্রমে প্রচুর মেয়ে । ছেলে কম। কারণটা সহজেই অনুমেয়। পুরুষতন্ত্র । আর তার নিজের মাও মনের মধ্যেই গেঁথে রেখেছিল পুত্রসন্তান লিপ্সা। যদি ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই কোনোভাবে কেউ গৌরীর পরিচয় জেনে যেত হয়ত তার পৃথিবীর আলো দেখাই হতো না।

আজ আরেকবার গৌরী পুরুষতান্ত্রিক আগ্রাসনের শিকার। কুড়ি বছর পর। আজ থেকে ঠিক কুড়ি দিন আগে দুটো হায়না তাকে ঘিরে ধরেছিল। অত্যাচারের বিবরণ এই গল্পে আপাতত অপ্রাসঙ্গিক। কিন্ত গৌরী এখন কোমায়। এটাই সবচেয়ে বড় কথা। পুরুষতন্ত্র জন্ম থেকেই আহত করেছে গৌরীকে ;কিন্ত এর মাঝেও দুজন পুরুষ ছিল তার সবচেয়ে আপন। বিবেকানন্দ অনাথ আশ্রমে তার পাতানো দুই দাদা। যারা তার থেকে বয়সে অনেকটাই বড়ো কিন্ত ওই অনাথ আশ্রমেই বেড়ে উঠেছিল। ছোটবেলা থেকেই ওই দুই দাদা গৌরীর জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে দিয়ে যেত।নতুন বইপত্রও দিয়ে যেত। দুই দাদাই একই কারখানায় কাজ করত। ওই দুই দাদা মিলে গৌরীর মা বাবার অভাব অনেকটাই পূরণ করেছিল। দাদারা বলত , " আমরা ভালো করে পড়তে পারিনি কিন্ত তুই ভালো করে পড়। তোর মাথা অনেক ভালো।

পুলিশ গৌরীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করার পর গৌরীর সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। গৌরী নির্যাতিতার আসল নাম নয় । আন্দোলনের প্রতীকী নাম।

আজ 12 জানুয়ারি , 2026 । মিছিল বেরিয়েছে রাস্তায় । "জাস্টিস ফর গৌরী" ধ্বনিতে মুখরিত চারিদিক। তীব্র শীত। চাদর মুড়ি দিয়ে একটা লোক মিছিলটাকে যেতে দিয়ে ডান দিকের চায়ের দোকানে এসে দাঁড়াল। তার মুখ ঢাকা। চায়ের দোকানে টিভিতে খবর চলছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সৃজন মাইতির সাংবাদিক সম্মেলন। পেট্রোল পাম্পের সিসিটিভিতে দুজন সম্ভাব্য অপরাধীর ছবি স্পষ্ট দেখা গেছে। পুলিশ আজকেই ওদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে। আরেকজন ফেরার। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের নাম জয় দাস। ফেরার অভিযুক্তের নাম বিজয় দাস।



সৃজন মাইতি : এই সরকার একটা অপদার্থ। প্রশাসন যদি অপরাধীদের শাস্তি না দিতে পারে মানুষ আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে।

সাংবাদিক : আজকেই পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

সৃজন মাইতি : পুলিশ যাকে গ্রেফতার করছে সম্ভবত ও শাসক দলের গুণ্ডা। ওর নাম জয় দাস।

সাংবাদিক: শাসক দলের মুখপাত্র বলছেন জয় দাস আপনাদের লোক। উনি এনকা*উন্টারের দাবি তুলছেন।

সৃজন মাইতি : মিথ্যা কথা। জয় দাস ওদের লোক। সেইজন্যই ওদের এনকা*উন্টার করতে মায়া লাগছে।

সাংবাদিক: কিন্ত এনকা*উন্টার তো একটা বেআইনি জিনিস।

সৃজন মাইতি :অপরাধীদের বিচার করতে কোনও আইন লাগে না। ওদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। 2019 সালে তেলেঙ্গানা সরকার একসাথে 4 জনের এনকা*উন্টার করে দেখিয়েছে। বাংলার সরকারের সেই মেরুদণ্ড নেই।

চায়ের দোকানের সবাই মন দিয়ে খবর শুনেছিল। আর নিজেদের মধ্যেও এই এনকা*উন্টার নিয়ে আলোচনা করছিল। মন দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন শুনেছিল চাদর মুড়ি দেওয়া ওই লোকটিও। হঠাত পিছন থেকে একজন হাত দিয়ে ওই লোকটার ঘাড় চেপে ধরে জিজ্ঞেস করল , " আপনি এইভাবে মুখ ঢেকে রেখেছেন কেন? দুপুরবেলা এতো শীত? "



"না মানে" চাদরের ভিতর থেকে উত্তর এলো "ভীষণ শীত করছে।"

"চাদর নামান। আপনার চাল চলন ঠিক লাগছে না।"

"আমার খুব শীত করছে।"

"আপনাকে অনেকক্ষণ ধরেই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে । একটু অন্য রকম লাগছে ।কে আপনি ? নাম বলুন "

চাদর মুড়ি দেওয়া ভদ্রলোক চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।

চায়ে চুমুক দিয়ে এক প্রৌঢ় বলে ওঠে , "ওরে হতভাগা । নিজের নামটাও বলতে পারবি না ? চোর নাকি ?"

চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকায় দোকানের বাকি লোকজন চেপে ধরে ওর চাদর নামাতেই সবাই বাকরুদ্ধ। ভদ্রলোকের মুখ দেখেই সবাই আঁতকে উঠল। এ কী ? এ তো গৌরী নির্যাতনকাণ্ডে ফেরার আরেক অভিযুক্ত বিজয় দাস। যে এতদিন ফেরার ছিল । সবাই চিৎকার করে উঠল। চিৎকার শুনে মিছিলের অল্পবয়সী তরুণ ছেলে মেয়েরাও ছুটে এসেছে। কয়েকজন পুলিশকে ফোন করেও ফেলেছে। কিন্ত তার আগেই শুরু হয়ে গেছে ধোলাই। সকলেই প্রতিশোধের আগুনে টগবগ করে ফুটছে। শীতের মধ্যে মারতে মারতে ছিঁড়ে ফেলা হল বিজয় দাসের জামা কাপড়। কারও হাতে বেল্ট। কারও হাতে লাঠি, বেত। সব মিলিয়ে প্রায় 50 জন ঘিরে ধরে বিজয় দাসকে মারছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে 5 টা ফেসবুক লাইভ।কিন্ত পুলিশের এখনও দেখা নেই।যারা হাতে মারতে পারছে না তারা মনের জ্বালা মেটাতে কমেন্টে এসে আক্রোশ উগরে দিচ্ছে।

একজন ফেসবুক লাইভে কমেন্ট করে লিখল, "ওকে চরম শিক্ষা দেওয়া হোক। যাতে আর কেউ সাহস না পায়।" তার রিপ্লাইতে কেউ লিখল, "হ্যাঁ। এটাই পিশাচদের সেরা শাস্তি।" কেউ লিখল, "আমাদের সামনে থাকলে ওর হাড়গোড় গুঁড়ো করে দিতাম।" ১০ খানা লাভ ❤️ রিয়াক্ট পড়ে গেল সেই কমেন্টে।

এই দেখে উৎফুল্ল হয়ে একজন বীর গণরোষের যুবনেতা ভিড়ের ভিতর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ততক্ষণে মারতে মারতে রক্তাক্ত করে ফেলা হয়েছে বিজয় দাসকে। এরপর মানুষের সেই পৈশাচিক আক্রোশ গিয়ে পড়ল বিজয়ের দেহের স্পর্শকাতর অঙ্গে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা চলল। মোবাইল ক্যামেরায় লাইভ করে সেটা দেখানো হল সারা দুনিয়াকে। গলগল করে রক্ত বেরোতে থাকল বিজয় দাসের শরীর থেকে।

"আমি অপরাধ করিনি" বিজয় দাস চিৎকার করে কেঁদে উঠল "আমাকে কথা বলতে দাও...."

মুখের ওপর উড়ে এলো লা*থি। বিজয়ের মাথাটা জোরে ছিটকে রাস্তায় ধাক্কা খেল। কথা থেমে গেল বিজয় দাসের।

পাশেই ছিল বাইকের গ্যারেজ। ওখান থেকে হঠাত্‍ই নিয়ে আসা হল বেশ কয়েকটি পেট্রোলের বোতল। মুহূর্তের মধ্যে সেই দাহ্য তরল ঢেলে দেওয়া হল নিথর বিজয়ের সারা গায়ে। চারিদিকে থিকথিক করছে ভিড়, শত শত মোবাইল ক্যামেরা ঘিরে রেখেছে বিজয়কে—মানুষের এই আদিম উল্লাস সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে ডিজিটাল পর্দায়।

"এদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। এরা সমাজের কীট। এদের এখনই শেষ করা দরকার"—ভিড়ের মধ্য থেকে জনৈক উন্মত্ত ব্যক্তির গর্জনে বাতাস ভারী হয়ে উঠল।

তারপরেই জমায়েতের মধ্য থেকে ছুঁড়ে মারা হল জ্বলন্ত দেশলাইয়ের কাঠি।

নিমেষের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করল বিজয়কে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা সেই আগুনের তীব্র উত্তাপে শেষবারের মতো জ্ঞান ফিরল তার। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে, আগুনের শিখার মাঝখান থেকে শেষবারের মতো এক বুক ফাটানো আর্তনাদ ভেসে এল। শেষ সম্বলটুকু দিয়ে চিৎকার করে বিজয় দাস বলে উঠল, "আমি অপরাধ করিনি!"

পুলিশের জিপ এসে যখন থামল, তখন সব শেষ। হয়ত অনেক আগেই এসেছিল পুলিশ, কিন্তু এই মারমুখী জনতাকে বাধা দেওয়ার সাহস সংগ্রহ করতে পারেনি। দূর থেকে নীরব দর্শক হয়েই তারা দেখেছে জনতার এই ভয়ঙ্কর বিচার। হাতে লাঠি নিয়ে তারাও যেন মেনে নিল, "জনতার বিচারই শ্রেষ্ঠ বিচার।"

বিকেলবেলা গৌরীর ICU তে ডাক্তারবাবু সমস্ত রিপোর্ট দেখে বললেন, "গৌরী কোমা থেকে জেগে উঠছে।" আর ৩-৪ দিন লাগতে পারে। সারা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল দুটো খবর—

"গণরোষে অভিযুক্তের মৃত্যু।"

"গৌরী জেগে উঠছে।"

📢 এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর আগে পেতে

👉 আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন ⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়

📢 গুরুত্বপূর্ণ খবর মিস করবেন না!

এই ধরনের খবরের আপডেট আগে জানতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত থাকুন

👉 Telegram-এ যুক্ত হোন
⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে

লোড হচ্ছে...