পদাতিক বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, নাগরিক পরিষেবা, চাকরি ও শিক্ষার বাংলা তথ্য

NSAP Pension Update 2026: নতুন নাম, ₹৫৩,৪২৮ কোটি ও প্রতিবন্ধী পেনশনে পরিবর্তন

NSAP Pension Update 2026: নতুন নাম, ₹৫৩,৪২৮ কোটি ও প্রতিবন্ধী পেনশনে পরিবর্তন

NSAP Pension Update 2026: নতুন নাম, ₹৫৩,৪২৮ কোটি ও প্রতিবন্ধী পেনশনের নিয়ম

National Social Assistance Programme (NSAP) নিয়ে ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মোট ₹৫৩,৪২৮ কোটি ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে NSAP এবং এর কয়েকটি উপ-প্রকল্পের নতুন নাম অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী পেনশনের ক্ষেত্রে ৮০% থেকে ৪০% benchmark disability-র মানদণ্ড এবং ন্যূনতম বয়সের শর্ত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ১৪ অক্টোবরের সরকারি PIB বিজ্ঞপ্তি দেখুন

তবে অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন এক বিষয় নয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী পেনশনের পরিবর্তিত যোগ্যতা, সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং সহায়তার হার নিয়ে নির্দেশিকা তিন মাসের মধ্যে প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা হবে। ১৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া সরকারি তথ্য থেকে পরবর্তী বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। তাই সমস্ত উপকারভোগী ইতিমধ্যে নতুন হারে টাকা পাচ্ছেন অথবা নতুন নিয়মে আবেদন শুরু হয়ে গিয়েছে—এমন দাবি করার ভিত্তি নেই।

১৪ অক্টোবর ২০২৬-এর সরকারি সিদ্ধান্তে কী পরিবর্তন হয়েছে?

National Social Assistance Programme-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের তিনটি প্রধান দিক রয়েছে। প্রথমত, ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য প্রকল্প চালু রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মূল কর্মসূচি ও কয়েকটি উপ-প্রকল্পের নতুন নাম অনুমোদন করা হয়েছে। তৃতীয়ত, প্রতিবন্ধী পেনশনের যোগ্যতা, আওতা এবং কেন্দ্রীয় সহায়তার হারে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

  • পাঁচ বছরের মোট অনুমোদিত ব্যয় ₹৫৩,৪২৮ কোটি।
  • NSAP এবং চারটি উপ-প্রকল্পের নতুন নাম অনুমোদন করা হয়েছে।
  • প্রতিবন্ধী পেনশনে benchmark disability-র মানদণ্ড ৮০% থেকে ৪০% করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • প্রতিবন্ধী পেনশনের ন্যূনতম বয়সের শর্ত পরিবর্তন করে জন্ম থেকেই যোগ্যতার সুযোগ রাখা হয়েছে।
  • বৃদ্ধ ও বিধবা পেনশন এবং National Family Benefit Scheme বিদ্যমান কাঠামোয় চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই অনুমোদনের আওতায় ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট প্রায় ৩.২০ কোটি সুবিধাভোগী রয়েছেন। এই সংখ্যাকে শুধু নতুন প্রতিবন্ধী পেনশনপ্রাপকের সংখ্যা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ভুল হবে।

২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ পর্যন্ত ₹৫৩,৪২৮ কোটি অনুমোদনের অর্থ কী?

পাঁচ বছরের জন্য ₹৫৩,৪২৮ কোটি অনুমোদন করা হয়েছে NSAP-এর ধারাবাহিকতা এবং ঘোষিত পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়নের জন্য। অর্থাৎ, এটি পুরো কর্মসূচির নির্ধারিত সময়কালের মোট ব্যয়ের অনুমোদন; প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা এককালীন অর্থ নয়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনও ব্যক্তি বৃদ্ধ পেনশন বা প্রতিবন্ধী পেনশন পাওয়ার যোগ্য হলেই পাঁচ বছরের বরাদ্দ থেকে তাঁর নামে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংরক্ষিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ব্যক্তিগত সুবিধা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের যোগ্যতা, অনুমোদন, সুবিধাভোগীর তালিকা এবং বাস্তবায়নব্যবস্থার উপর।

একইভাবে, পাঁচ বছরের মোট বরাদ্দকে কোনও একটি রাজ্যের বরাদ্দ বা শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী পেনশনের বাজেট হিসেবে দেখানো যাবে না। প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের পূর্ণ বিভাজন জানতে পৃথক সরকারি আর্থিক নথি প্রয়োজন।

NSAP-এর নতুন নাম কী হয়েছে?

১৪ অক্টোবরের ঘোষণায় National Social Assistance Programme-এর নতুন নাম হিসেবে Pradhan Mantri Samajik Sahayata Yojana অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃদ্ধ পেনশন, বিধবা পেনশন, প্রতিবন্ধী পেনশন এবং National Family Benefit Scheme-এর নতুন নামও অনুমোদিত হয়েছে।

পুরোনো প্রকল্পের নাম অনুমোদিত নতুন নাম
National Social Assistance Programme (NSAP) Pradhan Mantri Samajik Sahayata Yojana
Indira Gandhi National Old Age Pension Scheme (IGNOAPS) Pradhan Mantri Vridhavastha Pension Yojana
Indira Gandhi National Widow Pension Scheme (IGNWPS) Pradhan Mantri Vidhawa Pension Yojana
Indira Gandhi National Disability Pension Scheme (IGNDPS) Pradhan Mantri Divyangjan Pension Yojana
National Family Benefit Scheme (NFBS) Pradhan Mantri Parivar Labh Yojana

এগুলি সরকারি ঘোষণায় অনুমোদিত নাম। তবে নাম পরিবর্তনের অনুমোদন মানেই সব রাজ্যের পোর্টাল, আবেদনপত্র ও দপ্তরের নথিতে পরিবর্তন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে—এমন নয়। বাস্তবে নতুন নাম ব্যবহারের অবস্থা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি থেকে নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, NSAP-এর অধীনে ঐতিহাসিকভাবে Annapurna Scheme-ও রয়েছে। কিন্তু ১৪ অক্টোবরের ঘোষণায় নাম পরিবর্তনের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে Annapurna Scheme-এর কোনও নতুন নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাই এই প্রকল্পের নামও পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করা উচিত নয়।

প্রতিবন্ধী পেনশনে ৮০% থেকে ৪০% মানদণ্ডের পরিবর্তন

নতুন সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিবন্ধী পেনশনের যোগ্যতার মানদণ্ড পরিবর্তন। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, benchmark disability-র মানদণ্ড ৮০% থেকে কমিয়ে ৪০% করা হবে। একই সঙ্গে ন্যূনতম বয়সের শর্ত পরিবর্তন করে জন্ম থেকেই এই সুবিধার আওতায় আসার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আগের কাঠামো সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Indira Gandhi National Disability Pension Scheme-এর অধীনে নির্দিষ্ট BPL পরিবারের ১৮–৭৯ বছর বয়সি ব্যক্তিদের জন্য ৮০% প্রতিবন্ধকতার মানদণ্ড ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে মানদণ্ড ৪০% করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি মানুষ যোগ্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে কতজন নতুন করে সুবিধা পাবেন, তার চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও নির্দেশিকা-নির্ভর।

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে বুঝতে হবে। প্রথমত, ৪০% প্রতিবন্ধকতার শংসাপত্র থাকা এবং NSAP-এর নির্দিষ্ট পেনশন পাওয়ার যোগ্য হওয়া একই বিষয় নয়। দ্বিতীয়ত, ন্যূনতম বয়সের শর্ত পরিবর্তনের অনুমোদন থাকলেও আবেদনপদ্ধতি, নথি যাচাই এবং বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে কীভাবে পরিবর্তন কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা থেকে নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবন্ধী শংসাপত্র বা UDID Card-সংক্রান্ত সাধারণ প্রক্রিয়া জানতে পদাতিক বাংলার পুরোনো প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট থাকলে কী করবেন এবং UDID Card Online Apply-এর নিয়ম নিবন্ধটি পড়তে পারেন। তবে UDID Card থাকা মানেই NSAP পেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হওয়া নয়।

₹৩৭৫ ও ₹৬২৫ কেন্দ্রীয় সহায়তার অর্থ কী?

সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতিবন্ধী পেনশনের জন্য বয়সভিত্তিক দুটি কেন্দ্রীয় সহায়তার হার উল্লেখ করা হয়েছে।

বয়সসীমা অনুমোদিত কেন্দ্রীয় সহায়তা
০–৭৯ বছর মাসে ₹৩৭৫
৮০ বছর বা তার বেশি মাসে ₹৬২৫

এই অঙ্কগুলি প্রতিবন্ধী পেনশনের কেন্দ্রীয় সহায়তা হিসেবে বুঝতে হবে। এগুলি বৃদ্ধ পেনশন বা বিধবা পেনশনের নতুন মাসিক হার নয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সহায়তা এবং রাজ্য সরকারের অবদান মিলিয়ে কোনও ব্যক্তি মোট কত টাকা পান, সেটি আলাদা হিসাব।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সুবিধাভোগী রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্পের অধীনে অর্থ পেতে পারেন, অথবা কেন্দ্রীয় সহায়তার সঙ্গে রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত সহায়তা যুক্ত হতে পারে। তাই ₹৩৭৫ বা ₹৬২৫-কে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক প্রতিবন্ধী পেনশনভোগীর নিশ্চিত মোট প্রাপ্তি হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।

নতুন হার কখন থেকে কার্যকর হবে, বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের পেমেন্টে কীভাবে পরিবর্তন আসবে এবং নতুন যোগ্যতা যাচাইয়ের পদ্ধতি কী হবে—এসব প্রশ্নের জন্য সরকারি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মন্ত্রিসভার অনুমোদন দেখে ব্যক্তিগত পেমেন্টের তারিখ নির্ধারণ করা যায় না।

বৃদ্ধ ও বিধবা পেনশনে কি নতুন টাকা বাড়ানো হয়েছে?

১৪ অক্টোবরের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বৃদ্ধ ও বিধবা পেনশন প্রকল্প এবং National Family Benefit Scheme-কে বিদ্যমান কাঠামোয় চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই ঘোষণায় বৃদ্ধ বা বিধবা পেনশনের জন্য আলাদা কোনও নতুন মাসিক সহায়তার অঙ্ক ঘোষণা করা হয়নি।

কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো Indira Gandhi National Old Age Pension Scheme-এর কেন্দ্রীয় সহায়তা ছিল ৬০–৭৯ বছর বয়সি যোগ্য BPL প্রবীণদের জন্য মাসে ₹২০০ এবং ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য ₹৫০০। একই নথিতে Indira Gandhi National Widow Pension Scheme-এর ক্ষেত্রে ৪০–৭৯ বছর বয়সি যোগ্য BPL বিধবাদের জন্য মাসে ₹৩০০ এবং ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য ₹৫০০ উল্লেখ করা হয়েছে। পুরোনো কেন্দ্রীয় হার ও যোগ্যতার সরকারি তথ্য দেখুন

এই অঙ্কগুলি পুরোনো কেন্দ্রীয় কাঠামোর বেসলাইন হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, নতুন করে ঘোষণা করা বৃদ্ধি হিসেবে নয়। রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত সহায়তার কারণে মোট মাসিক পেনশন আলাদা হতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় সহায়তার অঙ্ককে পশ্চিমবঙ্গের সব পেনশনভোগীর মোট প্রাপ্তি বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

National Family Benefit Scheme কি মাসিক পেনশন দেয়?

না। National Family Benefit Scheme (NFBS) বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধী পেনশনের মতো মাসিক পেনশন প্রকল্প নয়। সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্য BPL পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হলে পরিবারের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। পুরোনো সরকারি নথিতে এই সহায়তার অঙ্ক ₹২০,০০০ উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন অনুমোদনে NFBS-কে বিদ্যমান কাঠামোয় চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে; অক্টোবরের ঘোষণায় এর জন্য পৃথক নতুন অঙ্ক ঘোষণা করা হয়নি।

National Social Assistance Programme-এর ইতিহাস

National Social Assistance Programme চালু হয় ১৫ আগস্ট ১৯৯৫-এ। এর উদ্দেশ্য ছিল আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের প্রবীণ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী সদস্যদের সামাজিক সুরক্ষা এবং পরিবারের উপার্জনক্ষম প্রধান ব্যক্তির মৃত্যু হলে নির্দিষ্ট যোগ্য পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

প্রকল্পটির পটভূমির সঙ্গে ভারতের সংবিধানের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদের সম্পর্ক রয়েছে। এই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির অংশ। এতে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও উন্নয়নের সীমার মধ্যে বেকারত্ব, বার্ধক্য, অসুস্থতা, অক্ষমতা এবং অন্যান্য অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে জনসাহায্যের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

NSAP-এর অধীনে ঐতিহাসিকভাবে পাঁচটি উপ-প্রকল্প রয়েছে: বৃদ্ধ পেনশন, বিধবা পেনশন, প্রতিবন্ধী পেনশন, National Family Benefit Scheme এবং Annapurna Scheme। তবে সব প্রকল্পের সুবিধার ধরন এক নয়। প্রথম তিনটিতে যোগ্য ব্যক্তিদের পেনশন সহায়তা দেওয়া হয়, NFBS-এ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এককালীন অর্থসাহায্যের ব্যবস্থা রয়েছে এবং Annapurna-র মূল উদ্দেশ্য যোগ্য প্রবীণদের খাদ্যশস্য সহায়তা করা।

এই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অংশ হিসেবেই ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ পর্যন্ত নতুন পাঁচ বছরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের সুবিধাভোগীদের কী যাচাই করা উচিত?

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বা সম্ভাব্য পেনশনভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিজের প্রকৃত প্রকল্প এবং তার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করা। কোনও ব্যক্তি কেন্দ্রীয় NSAP-এর অধীনে সুবিধা পান, নাকি রাজ্য সরকারের পৃথক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে—তা না জেনে শুধু নতুন কেন্দ্রীয় সহায়তার অঙ্ক দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

  • নিজের পেনশনের প্রকল্পের নাম ও অনুমোদনকারী দপ্তর যাচাই করুন।
  • কেন্দ্রীয় সহায়তা এবং রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত সহায়তার পার্থক্য বুঝুন।
  • প্রতিবন্ধী পেনশনের ক্ষেত্রে ৪০% benchmark disability-র পরিবর্তন বাস্তবে কার্যকর হয়েছে কি না, তা সরকারি নির্দেশিকা থেকে দেখুন।
  • নতুন আবেদন, নথি পুনরায় জমা বা পুনরায় যাচাইয়ের কোনও বাধ্যবাধকতা জারি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
  • সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টাল বা দপ্তরে নতুন নির্দেশিকা, পেমেন্ট এবং সুবিধাভোগীর তালিকার পরিবর্তন পরীক্ষা করুন।

১৪ অক্টোবরের মূল বিজ্ঞপ্তিতে নতুন আবেদন লিংক, ফি, বাধ্যতামূলক নথির তালিকা বা আবেদন শুরুর তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি। এই বিষয়ে বর্তমানে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে সেই তথ্য যাচাই করে তবেই আবেদন-সংক্রান্ত নির্দেশনা যোগ করা উচিত।

নতুন নির্দেশিকা কবে প্রকাশ হবে?

১৪ অক্টোবর ২০২৬-এর সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী পেনশনের পরিবর্তিত যোগ্যতা, সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং সহায়তার হার নিয়ে নির্দেশিকা তিন মাসের মধ্যে প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ, সরকারি ঘোষণাটি নির্দেশিকার জন্য একটি সময়সীমা জানিয়েছে; কিন্তু সেই সময়সীমা উল্লেখ করা মানেই নির্দেশিকা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, এমন নয়।

১৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি প্রকাশ্য সূত্রে পরবর্তী বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। এই অবস্থা ভবিষ্যতে বদলাতে পারে। তাই নিবন্ধ প্রকাশের ঠিক আগে এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রক ও PIB-এর নতুন বিজ্ঞপ্তি পুনরায় পরীক্ষা করা জরুরি।

সরকারি ঘোষণার মূল লিংক: NSAP-এর ২০২৬–৩১ অনুমোদন, নতুন নাম ও প্রতিবন্ধী পেনশনের পরিবর্তন

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. NSAP-এর নতুন নাম কী?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা National Social Assistance Programme-এর নতুন নাম Pradhan Mantri Samajik Sahayata Yojana অনুমোদন করেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পোর্টাল ও বাস্তবায়নব্যবস্থায় নামের পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে কি না, তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

২. NSAP-এর জন্য পাঁচ বছরে কত টাকা অনুমোদন করা হয়েছে?

২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য মোট ₹৫৩,৪২৮ কোটি ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি পুরো কর্মসূচির মোট বরাদ্দ, ব্যক্তিপিছু অর্থ নয়।

৩. প্রতিবন্ধী পেনশনে নতুন কেন্দ্রীয় সহায়তা কত?

অনুমোদিত হার অনুযায়ী ০–৭৯ বছর বয়সিদের জন্য মাসে ₹৩৭৫ এবং ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য মাসে ₹৬২৫ কেন্দ্রীয় সহায়তার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবায়নের বিস্তারিত নিয়ম সরকারি নির্দেশিকা থেকে যাচাই করতে হবে।

৪. প্রতিবন্ধী পেনশনে ৪০% মানদণ্ড কি কার্যকর হয়ে গিয়েছে?

৮০% থেকে ৪০% benchmark disability-তে পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ ও বাস্তবায়নের অবস্থা নিশ্চিত না করে সব আবেদন ও পেমেন্টের ক্ষেত্রে পরিবর্তন ইতিমধ্যে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

৫. প্রতিবন্ধী পেনশনের ন্যূনতম বয়সের শর্ত কি তুলে দেওয়া হয়েছে?

মন্ত্রিসভার অনুমোদিত সিদ্ধান্তে ন্যূনতম বয়সের শর্ত পরিবর্তন করে জন্ম থেকেই যোগ্যতার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। নতুন আবেদন ও বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের বিস্তারিত নির্দেশিকা যাচাই করা জরুরি।

৬. বৃদ্ধ ও বিধবা পেনশনের টাকাও কি বেড়েছে?

১৪ অক্টোবরের ঘোষণায় বৃদ্ধ ও বিধবা পেনশন প্রকল্পগুলিকে বিদ্যমান কাঠামোয় চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে এই দুটি প্রকল্পের জন্য পৃথক নতুন মাসিক সহায়তার অঙ্ক ঘোষণা করা হয়নি।

৭. পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবন্ধী পেনশনভোগীরা কি নিশ্চিতভাবে ₹৩৭৫ বা ₹৬২৫ পাবেন?

এই অঙ্কগুলি কেন্দ্রীয় সহায়তার অনুমোদিত হার। রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত বা পৃথক সহায়তা থাকলে মোট প্রাপ্তি আলাদা হতে পারে। ব্যক্তিগত প্রাপ্যতা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

৮. National Family Benefit Scheme কি মাসিক পেনশন?

না। এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট যোগ্য পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হলে এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধী পেনশনের মতো মাসিক পেমেন্ট নয়।

৯. NSAP কবে চালু হয়েছিল?

National Social Assistance Programme চালু হয় ১৫ আগস্ট ১৯৯৫-এ। ভারতের সংবিধানের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদের সামাজিক সহায়তা-সংক্রান্ত নির্দেশমূলক নীতির সঙ্গে এর উদ্দেশ্য যুক্ত।

১০. নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে কী করা উচিত?

নির্দেশিকায় যোগ্যতা, সহায়তার হার, সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং বাস্তবায়ন সম্পর্কে যা নির্দিষ্ট থাকবে, তা নিজের প্রকল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নতুন আবেদন, পুনরায় নথি জমা বা পেমেন্টের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে কোনও দাবি বিশ্বাস বা প্রচার করবেন না।

পাঠকের মন্তব্য

মতামত লিখুন। প্রকাশের আগে প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়।

০

মন্তব্য লোড হচ্ছে...

লোড হচ্ছে...