📢 Telegram-এ যুক্ত হন

পদাতিক বাংলা

বাংলা ভাষার প্রিয় কন্টেন্টের ঠিকানা

দিল্লির ১৪ ফুট মরণফাঁদ: ঠিকাদার কি কোনো ‘ডার্টি সিক্রেট’ লুকাচ্ছে? পলাতক কালপ্রিটের খোঁজে পুলিশের তল্লাশি!

দিল্লির ১৪ ফুট মরণফাঁদ: ঠিকাদার কি কোনো ‘ডার্টি সিক্রেট’ লুকাচ্ছে? পলাতক কালপ্রিটের খোঁজে পুলিশের তল্লাশি!

ভূমিকা: মানবতার অপমৃত্যু দিল্লির জনকপুরী—ব্যস্ততম এই রাজপথটি শুক্রবার সকালে এক বীভৎস দৃশ্যের সাক্ষী থাকল। একটি ১৪ ফুট গভীর গর্তে পড়ে থাকা একটি বাইক এবং তার পাশে নিথর হয়ে পড়ে থাকা এক ২৫ বছরের যুবক। প্রথম নজরে এটি স্রেফ একটি ‘দুর্ঘটনা’ মনে হলেও, তদন্তে যা বেরিয়ে আসছে তা যে কোনো মানুষের রক্ত হিম করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই মৃত্যু স্রেফ জল পর্ষদের গাফিলতি নয়, বরং এটি তথাকথিত ‘সভ্য’ সমাজের অমানবিকতার এক চূড়ান্ত নিদর্শন। ২৫ বছরের কমল ধিয়ানি হয়তো বেঁচে যেতেন, যদি ওই রাতে সেখানে উপস্থিত পাঁচজন ব্যক্তি একটু মানবিকতা দেখাতেন। কিন্তু না, তারা সাহায্যের বদলে বেছে নিয়েছিলেন তথ্য গোপন আর পলায়নের পথ।


কমল ধিয়ানি: সেই অভিশপ্ত রাতের গল্প কমল ধিয়ানি ছিলেন উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা, যিনি দিল্লির পালাম কলোনির কৈলাশপুরীতে থাকতেন। একটি নামী প্রাইভেট ব্যাংকের (HDFC Bank) কল সেন্টারে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। পরিবারের ছোট ছেলে, প্রাণবন্ত এক যুবক। ঘটনার দিন রাত ১১:৫০ নাগাদ কমল তার পরিবারকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, “আর মাত্র ১০ মিনিট, আমি বাড়ি ফিরছি।” কিন্তু সেই ১০ মিনিট আর কোনোদিন শেষ হয়নি। রাত ১২:১৫ নাগাদ জনকপুরীর প্রফেসর যোগিন্দর সিং মার্গের সেই অন্ধকার মোড়ে তার TVS Apache বাইকটি সরাসরি আছড়ে পড়ে জল পর্ষদের খুঁড়ে রাখা এক বিশাল গর্তে।


মরণফাঁদ: যেখানে ছিল না কোনো সতর্কতা তদন্তে জানা গেছে, দিল্লি জল পর্ষদ (DJB) সেই বুধবার বিকেলেই পাইপলাইন মেরামতের জন্য রাস্তাটি খুঁড়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে Reflectors, Barricading বা অন্তত কোনো Warning Sign থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে এর কিছুই ছিল না। ঘুটঘুটে অন্ধকারে রাস্তার মাঝখানে ১৪ ফুট গভীর গর্তটি ছিল এক জলজ্যান্ত ‘মরণফাঁদ’। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গর্তের চারপাশে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল না, যা থাকলে হয়তো কমলের বাইকটি ওই গভীর খাদে পড়ত না।


অমানবিকতার টাইমলাইন: পাঁচজন জানতেন, কেউই বলেনি! সবচেয়ে মর্মান্তিক তথ্যটি উঠে আসে বিপিন সিং নামের এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান থেকে। তিনি তার পরিবার নিয়ে বিয়েবাড়ি থেকে ফিরছিলেন। তিনি নিজের চোখে বাইকটিকে গর্তে পড়তে দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী সিকিউরিটি গার্ড দেশরাজকে খবর দেন। গার্ড ঘটনাটি জানায় সাইটে থাকা লেবার যোগেশকে, যে গর্তের মাত্র ১০ ফুট দূরে একটি তাঁবুতে ঘুমাচ্ছিল।

যোগেশ গর্তের কাছে গিয়ে দেখেন, বাইকের হেডলাইট তখনও জ্বলছে! গর্তের ভেতরে একটি নিথর দেহ পড়ে আছে। এই মুহূর্তে পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্সকে ফোন করলে হয়তো কমলকে বাঁচানো সম্ভব হতো। কিন্তু যোগেশ তার মানবিক সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে রাত ১২:২২ মিনিটে ফোন করেন তার বস, সাব-কন্ট্রাক্টর রাজেশ কুমার প্রজাপতিকে। রাজেশ মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি এসেও দেখলেন কমলের বাইকের হেডলাইট জ্বলছে। সাহায্যের বদলে রাজেশ তখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন তার ওপরের কন্ট্রাক্টর হিমাংশু গুপ্তার সঙ্গে কনফারেন্স কলে কথা বলতে! কী কথা হয়েছিল সেই কলে? তারা কি বাঁচার রাস্তা খুঁজছিলেন না কি তথ্য গোপনের? প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে রাত ১:৪৫ নাগাদ রাজেশ সেখান থেকে চলে যান। যোগেশও পালিয়ে যান তার কিছুক্ষণ পর।


ডার্টি সিক্রেট: তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার পর লেবার যোগেশ তাড়াহুড়ো করে ভাঙাচোরা কিছু ব্যারিকেড গর্তের চারপাশে সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ, তারা বুঝতে পেরেছিল যে তাদের গাফিলতিতে মৃত্যু হয়েছে এবং সেই অপরাধ ঢাকতে তারা প্রমাণ টেম্পারিং (Evidence Tampering) করছিল। সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগও উঠছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। মৃতদেহের ওপর দিয়ে লোক চলাচল করেছে, গাড়ি চলে গেছে, কিন্তু কেউ পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করার প্রয়োজন মনে করেনি।


পরিবারের দীর্ঘ রাত এবং পুলিশের ভূমিকা অন্যদিকে, কমল বাড়ি না ফেরায় তার পরিবার সারা রাত দিল্লির রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছে। তারা একের পর এক থানায় গেছেন, কিন্তু পুলিশের তরফ থেকেও শুরুতে কোনো সহযোগিতা মেলেনি বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, রাত ৩টের সময় তারা ওই গর্তের পাশ দিয়েও গেছেন, কিন্তু অন্ধকারে কিছু দেখতে পাননি। যদি এলাকাটি যথাযথভাবে আলোকিত থাকত, তবে হয়তো তখনই কমলকে উদ্ধার করা যেত। শেষ পর্যন্ত সকাল ৮টার সময় এক নারী তার সন্তানকে স্কুলে দিতে যাওয়ার পথে বাইকটি দেখতে পান এবং পিসিআর-এ খবর দেন।


তদন্ত ও পলাতক আসামী: পুলিশের তল্লাশি দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যে সাব-কন্ট্রাক্টর রাজেশ কুমার প্রজাপতিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের (Culpable Homicide) মামলা রুজু হয়েছে। দিল্লি জল পর্ষদের তিন ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু মূল কালপ্রিট যোগেশ এখনও পলাতক। পুলিশের গোপন সূত্রে খবর, Yogesh has likely fled to his hometown Etawah (যোগেশ সম্ভবত তার আদি বাড়ি উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়াতে পালিয়ে গেছে)। তাকে ধরতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম ইটাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। একই সাথে মূল কন্ট্রাক্টর হিমাংশু গুপ্তার খোঁজও চলছে।


উপসংহার: কার দায়বদ্ধতা? কমল ধিয়ানির এই অকাল মৃত্যু আমাদের পরিকাঠামো এবং মানবিকতা—দুটোরই কঙ্কালসার চেহারাটা বের করে দিয়েছে। ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ কি একটি মায়ের কোল খালি হওয়া পূর্ণ করতে পারে? প্রশ্ন উঠছে, কেন জনবহুল রাস্তায় এত বড় গর্ত খুলে রেখে দেওয়া হয়েছিল? কেন ঠিকাদাররা জীবনের চেয়ে ব্যবসার লাভকে বড় করে দেখল? পদাতিক বাংলা-র পক্ষ থেকে আমরা চাই, পলাতক যোগেশ এবং হিমাংশু গুপ্তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রতিটি দোষীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।

সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন। দিল্লির রাজপথ হোক বা আমাদের পাড়ার মোড়—গাফিলতির বিরুদ্ধে সরব হওয়াই এখন একমাত্র পথ।

📢 এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর আগে পেতে

👉 আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন ⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়

📢 গুরুত্বপূর্ণ খবর মিস করবেন না!

এই ধরনের খবরের আপডেট আগে জানতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত থাকুন

👉 Telegram-এ যুক্ত হোন
⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে

লোড হচ্ছে...