📢 Telegram-এ যুক্ত হন

পদাতিক বাংলা

বাংলা ভাষার প্রিয় কন্টেন্টের ঠিকানা

স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে দিলেন প্রথম স্বামী! তারপর প্রাক্তন স্ত্রীকে করলেন খুন! ধূপগুড়িতে হাড়হিম করা কাণ্ড!

স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে দিলেন প্রথম স্বামী! তারপর প্রাক্তন স্ত্রীকে করলেন খুন! ধূপগুড়িতে হাড়হিম করা কাণ্ড!
ধূপগুড়িতে পরকীয়া, উদারতা ও রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধ: স্ত্রীকে বিয়ে দিয়ে কয়েকদিন পরই খুন স্বামীর!

ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়ি: আমাদের সমাজব্যবস্থায় সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। কিন্তু উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে যা ঘটে গেল, তা শুনে যে কেউ শিউরে উঠবেন। বাস্তব যে কখনও কখনও রূপালী পর্দার ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানাতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ধূপগুড়ি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া এলাকা। পরকীয়া প্রেম, উদারতা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং সবশেষে এক রক্তক্ষয়ী খুনের ঘটনা—সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় গোটা রাজ্য।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: এক অদ্ভুত ত্রিভুজ প্রেম

এই কাহিনীর মূল চরিত্র তিনজন—

• শ্রীকান্ত রায় (প্রথম স্বামী)
• সোমা বর্মণ (মৃত স্ত্রী)
• চিরঞ্জিত রায় (প্রেমিক তথা দ্বিতীয় স্বামী)

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীকান্ত রায়ের সঙ্গে সোমার বিয়ে হয়েছিল কয়েক বছর আগে। তাঁদের সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে। অভাবের সংসার চালাতে শ্রীকান্ত ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে যেতেন। আর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগেই পাশের বাড়ির যুবক চিরঞ্জিত রায়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সোমার। গ্রামবাসীদের মতে, এই বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা এলাকায় প্রায় সকলেরই জানা ছিল।
উদারতার চরম সীমা: নিজের হাতে স্ত্রীর বিয়ে দিলেন স্বামী

সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় মারপিট বা বিচ্ছেদ পর্যন্ত জল গড়ায়। কিন্তু শ্রীকান্ত রায় নিয়েছিলেন এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত। কয়েকদিন আগে তিনি বাড়ি ফিরে স্ত্রীর পরকীয়া হাতেনাতে ধরে ফেলেন। অথচ মেজাজ না হারিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীদের ডেকে বলেন— “স্ত্রী যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে, আমি জোর করে আটকে রাখব না।” তারপরই ঘটে বিস্ময়কর ঘটনা। শ্রীকান্ত নিজ উদ্যোগে গ্রামবাসীদের সাক্ষী রেখে সোমার সঙ্গে প্রেমিক চিরঞ্জিতের বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ের পর সোমা দুই সন্তানকে ছেড়ে দ্বিতীয় স্বামীর বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। অনেকেই ভেবেছিলেন—এভাবেই বুঝি এক অশান্তির অবসান হলো।
খুনের নীল নকশা নাকি তাৎক্ষণিক আক্রোশ?

কিন্তু সেই শান্তি স্থায়ী হলো না। কয়েকদিন কাটতেই সব হিসাব পাল্টে গেল। শনিবার সকালে সোমা দ্বিতীয় স্বামীর বাড়িতে সংসারের কাজ করছিলেন। ঠিক তখনই সেখানে অতর্কিত হানা দেন শ্রীকান্ত রায়। হাতে ছিল একটি ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া)। অভিযোগ, কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়েই সোমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। একের পর এক কোপে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সোমা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। চিরঞ্জিতের মা এগিয়ে এলে তাকেও মারতে যান শ্রীকান্ত, তবে তিনি কোনওক্রমে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান।
খুনের পর অদ্ভুত আচরণ: রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় পদযাত্রা

অপরাধের পর সাধারণত খুনি পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এখানে দেখা গেল উল্টো ছবি। স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করার পর শ্রীকান্ত রক্তমাখা অস্ত্র হাতে নিয়েই ধূপগুড়ি বাজার সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে শুরু করেন। না ছিল অনুশোচনা, না ভয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এই দৃশ্য দেখে পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর দেওয়া হয় ধূপগুড়ি থানায়। পুলিশ দ্রুত পৌঁছে বাজার এলাকা থেকেই শ্রীকান্তকে আটক করে।
পুলিশের ভূমিকা ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

ধূপগুড়ি থানার পুলিশ সোমার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত শ্রীকান্ত রায় বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে। তবে প্রশ্ন উঠছে— যিনি নিজে বিয়ে দিলেন, তিনিই কয়েকদিন পর কেন খুন করলেন? পুলিশের অনুমান, হয়তো তিনি মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। অথবা এটি ছিল পরিকল্পিত প্রতিশোধের আগুন। তদন্ত চলছে।
এলাকাবাসীর বয়ান ও মানসিক স্থিতি

এই ঘটনায় গোটা ধূপগুড়ি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক বাসিন্দা বলেন— “আমরা ভেবেছিলাম শ্রীকান্ত খুব বড় মনের মানুষ। কিন্তু ভেতরে এত রাগ ছিল বুঝতে পারিনি।” চিরঞ্জিতের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান— “সব তো ও নিজেই ঠিক করেছিল। আজ কেন এমন করল বুঝতে পারছি না।”
এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা (Social Perspective)

ধূপগুড়ির এই ঘটনা সমাজের কিছু গভীর অন্ধকার দিক সামনে আনে—

১. সম্পর্কের জটিলতা
বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক অনেক সময় ভয়াবহ ট্র্যাজেডির দিকে ঠেলে দেয়।

২. মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব
শ্রীকান্তর আচরণ ইঙ্গিত দেয় দীর্ঘদিনের ট্রমা বা মানসিক অবসাদের সম্ভাবনা।

৩. আইন হাতে তুলে নেওয়ার ভয়াবহ পরিণাম
পারিবারিক বিবাদে হিংসা নয়, প্রয়োজন আইনি ও সামাজিক সহায়তা।
উপসংহার

ধূপগুড়ির এই রক্তমাখা কাহিনী কেবল অপরাধ নয়, এটি এক সামাজিক ট্র্যাজেডি। দুটি সন্তান আজ তাদের মাকে হারাল, আর বাবা এখন হাজতে। পরকীয়া, উদারতা ও প্রতিশোধের এই মর্মান্তিক সমাপ্তি বাংলার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকল।
আরও স্থানীয় অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন পদাতিক বাংলা।

📢 এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর আগে পেতে

👉 আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন ⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়

📢 গুরুত্বপূর্ণ খবর মিস করবেন না!

এই ধরনের খবরের আপডেট আগে জানতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত থাকুন

👉 Telegram-এ যুক্ত হোন
⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে

লোড হচ্ছে...