|
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার? স্কটল্যান্ডের নাটকীয় প্রবেশ ও টাইগারদের ভবিষ্যৎ সংকট বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে আজ এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। যে দলটিকে নিয়ে কোটি ভক্ত স্বপ্ন দেখেছিল, সেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের আজ মাঠের বাইরে থেকেই বিদায় নিতে হলো। রাজনৈতিক অস্থিরতা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে আইসিসি (ICC) বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার বা “টার্মিনেট” করেছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। আর এই শূন্যস্থান পূরণ করতে রণক্ষেত্রে বীরদর্পে প্রবেশ করেছে স্কটল্যান্ড। নাটকের শুরু ও চরম পরিণতি গত কয়েক মাস ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) সাথে আইসিসি এবং বিসিসিআই-এর এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে ভারত যখন পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই বাংলাদেশ দল নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসি বারবার আলোচনায় বসতে চাইলেও বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। আইসিসি সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে— যদি কোনো দেশ উপযুক্ত কারণ ছাড়া বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আজ সেই কঠোর সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হয়েছে বলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কেন স্কটল্যান্ড? বাংলাদেশের জায়গাটি কেন স্কটল্যান্ড পেল—এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পূর্ণ সদস্য দেশ বাদ পড়লে বা অংশ না নিলে বাছাইপর্বে শীর্ষে থাকা দেশ সেই সুযোগ পায়। স্কটল্যান্ড গত কয়েক বছরে সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলেছে। বিশেষ করে তাদের রান রেট, পারফরম্যান্স এবং মানসিক দৃঢ়তা আজ তাদের বিশ্বমঞ্চে এনে দাঁড় করিয়েছে। পরিসংখ্যানে স্কটল্যান্ডের উত্থান ও বাংলাদেশের ধস পরিসংখ্যানই শেষ কথা বলে। বিদেশের মাটিতে পারফরম্যান্স স্কটল্যান্ডের ক্রিকেটাররা বিদেশি কন্ডিশনে বাংলাদেশের চেয়েও বেশি সাবলীল। আইসিসি র্যাঙ্কিং বাংলাদেশ যখন ক্রমাগত নিচের দিকে নামছে, স্কটল্যান্ড তখন লম্বা লাফ দিয়েছে। বড় দলের বিরুদ্ধে জয় স্কটল্যান্ড জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে। ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ: দায় কার? বাংলাদেশের এই বিপর্যয়ের পেছনে কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়—প্রশাসনিক ব্যর্থতাও বড় কারণ। ১. কূটনৈতিক ব্যর্থতা ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো বিসিবি-র বড় পরাজয়। ২. দূরদর্শিতার অভাব ক্রিকেট বিশ্ব এখন নিয়মনিষ্ঠ। আবেগ নয়, আইনই বড়। ৩. মাঠের বাইরের বিতর্ক কোচ পরিবর্তন, বোর্ড কোন্দল, রাজনৈতিক প্রভাব—সব মিলিয়ে ক্রিকেটের লক্ষ্য থেকে সরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। রণক্ষেত্রে স্কটল্যান্ডের সম্ভাবনা স্কটল্যান্ড এখন বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি হবে। স্কটিশ অধিনায়ক জানিয়েছেন— “এই সুযোগকে আমরা ইতিহাস বানাতে চাই।” এটি তাদের কাছে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ সুযোগ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন কোথায়? এই বহিষ্কারাদেশ বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। স্পন্সরশিপ সংকট বিশ্বকাপে না থাকলে আন্তর্জাতিক স্পন্সররা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। খেলোয়াড়দের মানসিক ধাক্কা তরুণ ক্রিকেটারদের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। আইসিসি অনুদানেও কোপ বার্ষিক অর্থ সাহায্যও কমতে পারে। উপসংহার আজকের দিনটি বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক দীর্ঘ নাটকের যবনিকা পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু এই পতন গৌরবের নয়—লজ্জার। স্কটল্যান্ড আজ যোগ্যতা আর সুযোগ কাজে লাগিয়ে রণক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। তারা প্রমাণ করেছে— ক্রিকেটে ইতিহাস নয়, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতাই আসল। বাংলাদেশ যদি দ্রুত নিজেদের ভুল শুধরে না নেয়, তবে ভবিষ্যতে কেবল স্কটল্যান্ড নয়, নামিবিয়া বা নেদারল্যান্ডসের মতো দলও টাইগারদের পিছনে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। যবনিকা পতনের পর নতুন কোনো সূর্যোদয় কি হবে? উত্তর দেবে সময়। আরও ক্রিকেট বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন পদাতিক বাংলা। |
অবশেষে নাটকের যবনিকা পতন: বাংলাদেশকে সরিয়ে রণক্ষেত্রে স্কটল্যান্ড