|
থারুরের অনড় অবস্থান: ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে কংগ্রেসের অস্বস্তি ও জাতীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে শশী থারুর এক অনন্য নাম। তাঁর পাণ্ডিত্য, স্পষ্টবাদিতা এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্যান্য রাজনীতিকদের তুলনায় আলাদা উচ্চতায় বসিয়েছে। সম্প্রতি Kerala Literature Festival 2026-এর একটি অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে থারুর আবারও দেশজুড়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। কংগ্রেসের এই জ্যেষ্ঠ সাংসদ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জানিয়েছেন যে, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) নিয়ে তিনি আজও তাঁর অবস্থানে অনড় এবং একেবারেই অনুতপ্ত নন। অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট: একটি দাউদাউ করা জাতীয় ক্ষোভ ২০২৫ সালের ২২শে এপ্রিল দিনটি ভারতের ইতিহাসে এক বিষাদময় অধ্যায় হয়ে আছে। জম্মু-কাশ্মীরের পাহলগামে এক নৃশংস জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন নিরীহ মানুষ। গোটা দেশ যখন ক্ষোভে ফুঁসছিল, তখনই ভারত সরকার অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে একটি সুনির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে। ৭ই মে মধ্যরাতে চালানো সেই অভিযানই পরিচিত হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে। এই নামটির পেছনে ছিল আবেগ এবং কৌশলের যুগলবন্দি। থারুরের মতে, নামটি ছিল অসাধারণভাবে প্রতীকী—সিঁদুর যেমন সধবা নারীর মর্যাদার প্রতীক, পাহলগাম হামলায় যাঁদের সিঁদুর মুছে গিয়েছিল, এই অভিযান ছিল সেই শোকের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান। থারুর বনাম কংগ্রেস: জাতীয় স্বার্থ যখন দলের ঊর্ধ্বে যেখানে কংগ্রেস নেতৃত্ব সরকারের সামরিক পদক্ষেপের স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, সেখানে থারুর স্পষ্ট করে বলেন— “কিছু মৌলিক জাতীয় বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান দলের চেয়ে আলাদা হতে পারে।” থারুর জানান, হামলার পর তিনি নিজেই একটি সংবাদপত্রে লিখেছিলেন যে, এই ধরনের অপরাধ যেন শাস্তিহীন না যায় এবং ভারতের উচিত একটি সীমিত কিন্তু কার্যকর ‘Kinetic Response’ নেওয়া। সরকার যখন ঠিক তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে, তখন তিনি সমালোচনা করতে পারেননি। এক দুঃসাহসী কূটনৈতিক মিশন: কেন থারুর অনন্য? অপারেশন সিঁদুরের পর আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে মোদি সরকার একটি চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেয়। বিরোধী দলের নেতা হয়েও থারুরকে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে আমেরিকা, ব্রাজিল ও পানামাসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। থারুর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যাখ্যা করেন—ভারত যুদ্ধ চায় না, এটি ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। তিনি যুক্তি দেন যে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর ট্রেনিং ক্যাম্প ধ্বংস মানেই আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা। থারুরের বিশ্লেষণে কেন এই অপারেশন ‘সফল’? থারুর কেরালা সাহিত্য উৎসবে সফলতার তিনটি মূল দিক তুলে ধরেন— ১. Precision Strike ভারত কোনো অসামরিক এলাকায় নয়, নয়টি নির্দিষ্ট জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছিল। ২. মানবিক ও কৌশলগত দায়িত্ব রাতের গভীরে অভিযান চালানো হয়েছিল যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ৩. আন্তর্জাতিক বার্তা ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে—সন্ত্রাসবাদে আপস নয়, তবে অহেতুক যুদ্ধেও নয়। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি ও ভারতের রাজনীতি থারুরের এই অবস্থান কংগ্রেসের ভেতরে বিতর্ক তৈরি করেছে। অনেকে মনে করছেন, প্রকাশ্যে সরকারের প্রশংসা করে তিনি দলের রাজনৈতিক লাইনে ফাটল ধরাচ্ছেন। তবে থারুর নেহরুর ঐতিহাসিক উক্তি স্মরণ করিয়ে দেন— “Who lives if India dies?” তাঁর মতে, জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে দলীয় বিভেদ নয়, ‘India First’ নীতিই প্রধান। পদাতিক বাংলা-র বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও উপসংহার পদাতিক বাংলা সব সময় নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের চেষ্টা করে। থারুরের ঘটনাটি প্রমাণ করে গণতন্ত্রে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। অপারেশন সিঁদুর ইতিহাসে কীভাবে মূল্যায়িত হবে তা ভবিষ্যৎ বলবে, কিন্তু থারুরের এই অনড় অবস্থান ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিল। জাতীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির গভীর বিশ্লেষণের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন পদাতিক বাংলা। |
অপারেশন সিঁদুর সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, নিজের অবস্থানেই অনড় শশী থারুর: অস্বস্তিতে কংগ্রেস?