📢 Telegram-এ যুক্ত হন

পদাতিক বাংলা

বাংলা ভাষার প্রিয় কন্টেন্টের ঠিকানা

মহারাজের বায়োপিক: মুম্বাইতে তৈরি হচ্ছে বেহালার বাড়ি, ফিরে দেখা সৌরভের রাজকীয় সংগ্রাম

মহারাজের বায়োপিক: মুম্বাইতে  তৈরি হচ্ছে বেহালার বাড়ি, ফিরে দেখা সৌরভের রাজকীয় সংগ্রাম
বাঙালির আবেগ সৌরভ গাঙ্গুলী রূপালি পর্দায়: বেহালার বাড়ি থেকে লর্ডস—এক মহারাজের জীবনকথা

বাঙালির আবেগ, ভারতীয় ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অধিনায়ক এবং বর্তমান প্রজন্মের আইকন সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবন এবার সেলুলয়েডের পর্দায়। বেশ কয়েক বছর ধরে জল্পনা চলার পর অবশেষে দানা বাঁধছে ‘দাদা’-র বায়োপিক। পরিচালক বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে এবং অভিনেতা রাজকুমার রাও-এর কাঁধে গুরুভার—এক জীবন্ত কিংবদন্তিকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। তবে সাম্প্রতিক যে খবরটি সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে, তা হলো মুম্বাইয়ের এক স্টুডিওতে সৌরভের বেহালার বাড়ির সেট নির্মাণ। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা কেবল বায়োপিকের আপডেট নয়, বরং এক দীর্ঘ যাত্রায় ফিরে দেখব সৌরভের সেই লড়াইয়ের দিনগুলো, যা তাঁকে ‘প্রিন্স অফ কলকাতা’ থেকে ‘মহারাজ’ বানিয়েছিল।
১. মুম্বাইয়ে বেহালার ‘মঙ্গলা চণ্ডী ভবন’

সৌরভ গাঙ্গুলীর বায়োপিকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর বসতবাড়িটি ফুটিয়ে তোলা। বেহালার ২/৬ বীরেন রায় রোডের বাড়িটি কেবল একটি বাড়ি নয়, এটি বাংলার ক্রিকেট ইতিহাসের একটি জীবন্ত মিউজিয়াম। পরিচালক বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে জানিয়েছেন, “আমরা কলকাতায় অনেক দিন ধরে শুটিং করব, কিন্তু সৌরভের বাড়ির ভেতরের দৃশ্যগুলোর জন্য আমাদের একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ প্রয়োজন। তাই আমরা মুম্বাইয়ের স্টুডিওতে ৪৮ কক্ষবিশিষ্ট সেই বিশাল প্রাসাদের একটি অংশ হুবহু পুনর্নির্মাণ করছি।” এই সেটে সৌরভের আইকনিক ট্রফি রুম থেকে শুরু করে তাঁর শৈশবের খেলার মাঠের আদল পর্যন্ত ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। বাড়ির দেওয়ালের রং এবং কাঠের কারুকাজও রাখা হচ্ছে একদম আসল বাড়ির মতো। রাজকুমার রাও এই সেটে ঢোকার আগে সৌরভের জীবনযাত্রা বোঝার জন্য বেহালার বাড়িতেও বেশ কিছুদিন সময় কাটিয়েছেন।
২. অভিষেক এবং প্রথম আঘাত (১৯৯২–১৯৯৬)

সৌরভের সংগ্রামের গল্প শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। ১৯৯২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সুযোগ পেলেও একটি ওয়ানডে খেলেই তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর আচরণ উদ্ধত এবং তিনি সিনিয়রদের জল বইতে রাজি হননি—যা পরবর্তীতে সৌরভ নিজে অস্বীকার করেন। চার বছরের নির্বাসন একজন তরুণ ক্রিকেটারের কেরিয়ার শেষ করে দিতে পারত। কিন্তু সৌরভ দমে যাননি। তিনি বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে রানের পাহাড় গড়েন। ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে ফিরে লর্ডসের অভিষেক টেস্টে ১৪১ রান করে তিনি বুঝিয়ে দেন—এই রাজপুত্র রাজত্ব করতেই এসেছে।
৩. ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অন্ধকার এবং এক নতুন নেতার জন্ম

২০০০ সালে ভারতীয় ক্রিকেট ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে বিধ্বস্ত। শচীন টেন্ডুলকার অধিনায়কত্ব ছাড়লে সৌরভ গাঙ্গুলীর কাঁধে পড়ে দলের দায়িত্ব। দল তখন দিশেহারা, দেশের মানুষের বিশ্বাস তলানিতে। সৌরভ জানতেন, তাঁকে শুধু ম্যাচ নয়—মানুষের বিশ্বাসও জিততে হবে। যুবরাজ সিং, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, জহির খান, হরভজন সিংয়ের মতো তরুণদের ওপর ভরসা রেখে তিনি এক নতুন ভারতীয় দল গড়েন। ২০০১ সালে ইডেন গার্ডেন্সে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ফলো-অন খেয়েও ঐতিহাসিক জয় আজও টেস্ট ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়গুলির একটি।
৪. লর্ডসের ব্যালকনি ও ‘দাদাগিরি’

২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি ফাইনাল। লর্ডসের ব্যালকনিতে শার্ট খুলে সৌরভ গাঙ্গুলীর উল্লাস আজও ভারতীয় ক্রিকেটের স্বাধীনতার প্রতীক। এটি কেবল একটি ট্রফি জয় নয়—এটি ছিল ইংরেজদের তাদেরই মাঠে চোখে চোখ রেখে জবাব দেওয়া। সেই মুহূর্তে ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছিল এক নতুন ভারতকে—যারা আর ভয় পায় না।
৫. গ্রেগ চ্যাপেল অধ্যায়: সবচেয়ে কঠিন লড়াই

২০০৫ সালে কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের সাথে দ্বন্দ্ব সৌরভের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। অধিনায়কত্ব হারানো এবং দল থেকে বাদ পড়া তাঁকে ভেঙে দিতে পারত। কিন্তু তিনি হার মানেননি। ঘরোয়া ক্রিকেট, কঠোর ডায়েট, জিম—সবকিছু করে ২০০৬ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুর্দান্ত কামব্যাক করেন। জোহানেসবার্গ টেস্টে তাঁর হাফ-সেঞ্চুরি ছিল সমালোচকদের মুখে জোরালো চপেটাঘাত।
৬. বায়োপিকের প্রযুক্তি ও কাস্টিং

এই সিনেমাটি কেবল বায়োপিক নয়, এটি এক পিরিয়ড ড্রামা। নব্বইয়ের দশকের কলকাতা ও লর্ডসকে ফিরিয়ে আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক VFX প্রযুক্তি। রাজকুমার রাও ছয় মাস ধরে বাঁ-হাতি ব্যাটিংয়ের অনুশীলন করছেন। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকতে পারেন প্রীতম। ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে কে অভিনয় করবেন, তা এখনও গোপন।
৭. কেন এই বায়োপিক Padatik Bangla পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

এই বায়োপিক আমাদের শেখায়—হেরে গিয়েও ফেরা যায়, প্রতিভার সাথে জেদ থাকলে অসম্ভব কিছু নেই, আর নেতৃত্ব মানে শুধু আদেশ নয়—সতীর্থদের আগলে রাখা।
উপসংহার

সৌরভ গাঙ্গুলী বাঙালির কাছে কেবল একজন ক্রিকেটার নন—তিনি এক অমলিন আবেগ। তাঁর জীবন সংগ্রামের গল্প। ২০২৬ সালে এই বায়োপিক মুক্তি পেলে আমরা রূপালি পর্দায় আবার ফিরে পাব সেই লর্ডসের দাদাকে—যিনি শিখিয়েছিলেন, মাথা উঁচু করে লড়তে।

📢 এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর আগে পেতে

👉 আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন ⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়

📢 গুরুত্বপূর্ণ খবর মিস করবেন না!

এই ধরনের খবরের আপডেট আগে জানতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত থাকুন

👉 Telegram-এ যুক্ত হোন
⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে

লোড হচ্ছে...