ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখটি একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের কাছে ভারতের পরাজয় কেবল একটি সিরিজের হার নয়, বরং এটি একটি ৩-৮ বছরের অজেয় দুর্গের পতন। নিউজিল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হার গৌতম গম্ভীরের কোচিং ক্যারিয়ারের ওপর সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। ২০০৭ এবং ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনাল জয়ের নায়ক গম্ভীর কি তবে কোচ হিসেবে ব্যর্থ? এই প্রশ্ন এখন চায়ের কাপ থেকে শুরু করে বিসিসিআই-এর বোর্ড রুম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ৩৮ বছরের রেকর্ড ধূলিসাৎ
১৯৮৮ সালের পর থেকে কিউইরা ভারতের মাটিতে কখনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি। আজহারউদ্দিন, সৌরভ গাঙ্গুলী, এমএস ধোনি কিংবা বিরাট কোহলি—কারো আমলেই নিউজিল্যান্ড এই সাহস দেখাতে পারেনি। কিন্তু গম্ভীরের জমানায় সেই রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সিরিজের শেষ ম্যাচে বিরাট কোহলির লড়াকু ৮৫তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিও ভারতকে রক্ষা করতে পারেনি। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা এবং বোলারদের খেই হারিয়ে ফেলা ভারতকে এই লজ্জাজনক হারের সম্মুখীন করেছে।
২. টেস্ট ক্রিকেটে 'অজেয় ভারত' তকমার মৃত্যু
গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে টেস্ট ফরম্যাটে। যে ভারত গত ১২ বছর ঘরের মাঠে কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি, তারা গত দেড় বছরে একের পর এক লজ্জার রেকর্ড গড়েছে:
নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ হোয়াইটওয়াশ: ২০২৪ সালের শেষ দিকে কিউইরা ভারতকে তাদেরই মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করে। বেঙ্গালুরু টেস্টে ভারত মাত্র ৪৬ রানে অলআউট হয়, যা ঘরের মাঠে ভারতের সর্বনিম্ন রান।
বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি হার: অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-৩ ব্যবধানে সিরিজ হেরে দীর্ঘ এক দশকের আধিপত্য হারায় ভারত।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ঐতিহাসিক হার: ২০২৫ সালের শেষের দিকে গুয়াহাটি টেস্টে ভারত ৪০৮ রানে হারে। রানের ব্যবধানে এটি ভারতের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়। গম্ভীরের 'অ্যাগ্রেসিভ ক্রিকেট' বা 'গম্ভীর-বল' লাল বলের ক্রিকেটে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. রোহিত-বিরাট দ্বন্দ্ব এবং সিনিয়রদের প্রস্থান
গৌতম গম্ভীরের সাথে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার সম্পর্ক নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। আইপিএলের মাঠে অতীতে গম্ভীরের সাথে কোহলির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ভক্তরা ভোলেননি। গম্ভীর কোচ হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ থমথমে। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর রোহিত এবং বিরাট দুজনেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। অনেকে মনে করেন, গম্ভীরের কোচিং স্টাইলের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরেই তারা দীর্ঘ ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটক দাবি করেছেন যে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, কিন্তু মাঠে খেলোয়াড়দের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অন্য কথা বলছে।
৪. দল নির্বাচনে 'স্বজনপ্রীতি'র অভিযোগ
গম্ভীরের কোচিংয়ে দল নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লখনউ সুপার জায়ান্টসের মেন্টর থাকাকালীন যাদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল, তাদের জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আয়ুষ বাদোনির মতো তরুণ ক্রিকেটারকে ঘরোয়া ক্রিকেটে আহামরি পারফরম্যান্স ছাড়াই ওয়ানডে দলে সুযোগ দেওয়া এবং ঋতুরাজ গায়কোয়াড় বা সঞ্জু স্যামসনের মতো ধারাবাহিক পারফর্মারদের উপেক্ষা করা ভালো চোখে দেখছেন না সমর্থকরা। গম্ভীর কি তবে যোগ্যতার চেয়ে নিজের পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন? এই প্রশ্ন এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুঙ্গে।
৫. সাদা বলের সাফল্য: একমাত্র আশার আলো
পুরোটাই কি গম্ভীরের ব্যর্থতা? পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। টেস্টে হারলেও সাদা বলের ক্রিকেটে গম্ভীর কিছু সাফল্য এনে দিয়েছেন:
২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত এই শিরোপা জিতেছিল।
২০২৫ এশিয়া কাপ: ভারত অপরাজিত থেকে এশিয়া কাপ জয় করে।
তরুণ প্রতিভার বিকাশ: নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং হর্ষিত রানার মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের গম্ভীরই তুলে এনেছেন। নীতীশ রেড্ডি বর্তমানে হার্দিক পান্ডিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করছেন।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গম্ভীরের জয় হার অনুপাত অত্যন্ত ঈর্ষণীয়, যা প্রমাণ করে যে ছোট ফরম্যাটে তার রণকৌশল এখনও কার্যকর।
৬. গম্ভীর-বল: জুয়া নাকি বিপ্লব?
গৌতম গম্ভীর সবসময়ই প্রথাগত ক্রিকেটের বাইরে চিন্তা করতে ভালোবাসেন। তিনি আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের পক্ষপাতী। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে রক্ষণাত্মক কৌশলের প্রয়োজন পড়ে, যা গম্ভীর আমলের ব্যাটাররা ভুলে গেছেন বলে মনে হয়। প্রতিটি বল মারার প্রবণতা ভারতকে টেস্টে বিপদে ফেলছে। অন্যদিকে, বোলিংয়ের ক্ষেত্রে বারবার পরিবর্তন এবং অদ্ভুত ফিল্ড প্লেসিং অনেক সময় বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে।
৭. সামনে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: শেষ সুযোগ
আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ গম্ভীরের জন্য অ্যাসিড টেস্ট। ঘরের মাঠে এই টুর্নামেন্টে যদি ভারত ব্যর্থ হয়, তবে বিসিসিআই হয়তো গম্ভীরের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হবে। শোনা যাচ্ছে, রাহুল দ্রাবিড়কে পুনরায় মেন্টর হিসেবে ফিরিয়ে আনার চিন্তা করছে বোর্ড।
৮. ভক্তদের ক্ষোভ ও বর্তমান পরিস্থিতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে #GautamExit ট্রেন্ড করছে। ৩৮ বছর পর নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হার সমর্থকরা মেনে নিতে পারছেন না। গম্ভীর নিজেও চাপে আছেন। ইন্দোর হারের পর প্রেস কনফারেন্সে গম্ভীর বলেন, “আমরা হারতে ভয় পাই না, তবে আমরা আমাদের ভুল থেকে শিখছি।” কিন্তু সমর্থকরা আর শিখতে দেখতে চান না, তারা জয় দেখতে চান।
৯. উপসংহার: কোন পথে টিম ইন্ডিয়া?
গৌতম গম্ভীর একজন যোদ্ধা। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ভারতকে অনেক কিছু দিয়েছেন। কিন্তু কোচ হিসেবে তার যাত্রাটি অম্ল-মধুর। একদিকে তিনি ট্রফি জিতছেন, অন্যদিকে ঘরের মাঠে ভারতের বছরের পর বছর ধরে গড়া সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছেন।
আগামী কয়েক মাস ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গম্ভীর যদি তার ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ভারতকে ট্রফি জেতাতে পারেন, তবে হয়তো সমালোচকদের মুখ বন্ধ হবে। অন্যথায়, ভারতের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে তার যে সম্মান ছিল, কোচ হিসেবে ব্যর্থতার দায় সেই সম্মানে আঁচড় কাটতে পারে।
১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ৩৮ বছরের রেকর্ড ধূলিসাৎ
১৯৮৮ সালের পর থেকে কিউইরা ভারতের মাটিতে কখনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি। আজহারউদ্দিন, সৌরভ গাঙ্গুলী, এমএস ধোনি কিংবা বিরাট কোহলি—কারো আমলেই নিউজিল্যান্ড এই সাহস দেখাতে পারেনি। কিন্তু গম্ভীরের জমানায় সেই রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সিরিজের শেষ ম্যাচে বিরাট কোহলির লড়াকু ৮৫তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিও ভারতকে রক্ষা করতে পারেনি। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা এবং বোলারদের খেই হারিয়ে ফেলা ভারতকে এই লজ্জাজনক হারের সম্মুখীন করেছে।
২. টেস্ট ক্রিকেটে 'অজেয় ভারত' তকমার মৃত্যু
গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে টেস্ট ফরম্যাটে। যে ভারত গত ১২ বছর ঘরের মাঠে কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি, তারা গত দেড় বছরে একের পর এক লজ্জার রেকর্ড গড়েছে:
নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ হোয়াইটওয়াশ: ২০২৪ সালের শেষ দিকে কিউইরা ভারতকে তাদেরই মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করে। বেঙ্গালুরু টেস্টে ভারত মাত্র ৪৬ রানে অলআউট হয়, যা ঘরের মাঠে ভারতের সর্বনিম্ন রান।
বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি হার: অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-৩ ব্যবধানে সিরিজ হেরে দীর্ঘ এক দশকের আধিপত্য হারায় ভারত।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ঐতিহাসিক হার: ২০২৫ সালের শেষের দিকে গুয়াহাটি টেস্টে ভারত ৪০৮ রানে হারে। রানের ব্যবধানে এটি ভারতের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়। গম্ভীরের 'অ্যাগ্রেসিভ ক্রিকেট' বা 'গম্ভীর-বল' লাল বলের ক্রিকেটে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. রোহিত-বিরাট দ্বন্দ্ব এবং সিনিয়রদের প্রস্থান
গৌতম গম্ভীরের সাথে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার সম্পর্ক নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। আইপিএলের মাঠে অতীতে গম্ভীরের সাথে কোহলির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ভক্তরা ভোলেননি। গম্ভীর কোচ হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ থমথমে। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর রোহিত এবং বিরাট দুজনেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। অনেকে মনে করেন, গম্ভীরের কোচিং স্টাইলের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরেই তারা দীর্ঘ ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটক দাবি করেছেন যে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, কিন্তু মাঠে খেলোয়াড়দের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অন্য কথা বলছে।
৪. দল নির্বাচনে 'স্বজনপ্রীতি'র অভিযোগ
গম্ভীরের কোচিংয়ে দল নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লখনউ সুপার জায়ান্টসের মেন্টর থাকাকালীন যাদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল, তাদের জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আয়ুষ বাদোনির মতো তরুণ ক্রিকেটারকে ঘরোয়া ক্রিকেটে আহামরি পারফরম্যান্স ছাড়াই ওয়ানডে দলে সুযোগ দেওয়া এবং ঋতুরাজ গায়কোয়াড় বা সঞ্জু স্যামসনের মতো ধারাবাহিক পারফর্মারদের উপেক্ষা করা ভালো চোখে দেখছেন না সমর্থকরা। গম্ভীর কি তবে যোগ্যতার চেয়ে নিজের পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন? এই প্রশ্ন এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুঙ্গে।
৫. সাদা বলের সাফল্য: একমাত্র আশার আলো
পুরোটাই কি গম্ভীরের ব্যর্থতা? পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। টেস্টে হারলেও সাদা বলের ক্রিকেটে গম্ভীর কিছু সাফল্য এনে দিয়েছেন:
২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত এই শিরোপা জিতেছিল।
২০২৫ এশিয়া কাপ: ভারত অপরাজিত থেকে এশিয়া কাপ জয় করে।
তরুণ প্রতিভার বিকাশ: নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং হর্ষিত রানার মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের গম্ভীরই তুলে এনেছেন। নীতীশ রেড্ডি বর্তমানে হার্দিক পান্ডিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করছেন।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গম্ভীরের জয় হার অনুপাত অত্যন্ত ঈর্ষণীয়, যা প্রমাণ করে যে ছোট ফরম্যাটে তার রণকৌশল এখনও কার্যকর।
৬. গম্ভীর-বল: জুয়া নাকি বিপ্লব?
গৌতম গম্ভীর সবসময়ই প্রথাগত ক্রিকেটের বাইরে চিন্তা করতে ভালোবাসেন। তিনি আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের পক্ষপাতী। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে রক্ষণাত্মক কৌশলের প্রয়োজন পড়ে, যা গম্ভীর আমলের ব্যাটাররা ভুলে গেছেন বলে মনে হয়। প্রতিটি বল মারার প্রবণতা ভারতকে টেস্টে বিপদে ফেলছে। অন্যদিকে, বোলিংয়ের ক্ষেত্রে বারবার পরিবর্তন এবং অদ্ভুত ফিল্ড প্লেসিং অনেক সময় বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে।
৭. সামনে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: শেষ সুযোগ
আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ গম্ভীরের জন্য অ্যাসিড টেস্ট। ঘরের মাঠে এই টুর্নামেন্টে যদি ভারত ব্যর্থ হয়, তবে বিসিসিআই হয়তো গম্ভীরের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হবে। শোনা যাচ্ছে, রাহুল দ্রাবিড়কে পুনরায় মেন্টর হিসেবে ফিরিয়ে আনার চিন্তা করছে বোর্ড।
৮. ভক্তদের ক্ষোভ ও বর্তমান পরিস্থিতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে #GautamExit ট্রেন্ড করছে। ৩৮ বছর পর নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হার সমর্থকরা মেনে নিতে পারছেন না। গম্ভীর নিজেও চাপে আছেন। ইন্দোর হারের পর প্রেস কনফারেন্সে গম্ভীর বলেন, “আমরা হারতে ভয় পাই না, তবে আমরা আমাদের ভুল থেকে শিখছি।” কিন্তু সমর্থকরা আর শিখতে দেখতে চান না, তারা জয় দেখতে চান।
৯. উপসংহার: কোন পথে টিম ইন্ডিয়া?
গৌতম গম্ভীর একজন যোদ্ধা। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ভারতকে অনেক কিছু দিয়েছেন। কিন্তু কোচ হিসেবে তার যাত্রাটি অম্ল-মধুর। একদিকে তিনি ট্রফি জিতছেন, অন্যদিকে ঘরের মাঠে ভারতের বছরের পর বছর ধরে গড়া সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছেন।
আগামী কয়েক মাস ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গম্ভীর যদি তার ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ভারতকে ট্রফি জেতাতে পারেন, তবে হয়তো সমালোচকদের মুখ বন্ধ হবে। অন্যথায়, ভারতের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে তার যে সম্মান ছিল, কোচ হিসেবে ব্যর্থতার দায় সেই সম্মানে আঁচড় কাটতে পারে।