📢 Telegram-এ যুক্ত হন

পদাতিক বাংলা

বাংলা ভাষার প্রিয় কন্টেন্টের ঠিকানা

গো ব্যাক স্লোগানে রেগে গেরুয়া শুভেন্দু। বসে রইলেন মেঝেতে

গো ব্যাক স্লোগানে রেগে গেরুয়া শুভেন্দু। বসে রইলেন  মেঝেতে

পুরুলিয়ার রুক্ষ লাল মাটি থেকে রাজনীতির তপ্ত হাওয়া নিয়ে ফেরার পথে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোডে যে নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হলো, তা যেন কোনো হাই-ভোল্টেজ মেগা সিরিয়ালের ক্লাইম্যাক্সকেও হার মানায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং ‘বিক্ষোভ’—এই দুটি বিষয় এখন যেন বাংলার সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রবিবারের এই ঘটনাটি শুভেন্দুবাবুর সেই চিরপরিচিত লড়াকু মেজাজ এবং একটু ‘ড্রামাটিক’ হওয়ার সহজাত দক্ষতাকে আবারও জনসমক্ষে নতুন করে নিয়ে এল।

ঘটনার সূত্রপাত তখন, যখন পুরুলিয়া থেকে সভার শেষে সাদা রঙের দামি এসইউভি-তে চড়ে ফিরছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। চন্দ্রকোনা রোডের কাছে আসতেই একদল অতি-উৎসাহী জনতা (যাদের তৃণমূল কর্মী বলেই বিজেপি দাবি করছে) কালো পতাকা হাতে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করে। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে হাই-সিকিউরিটি কনভয় ধুলো উড়িয়ে বেরিয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু শুভেন্দুবাবু তো আর সাধারণ নেতা নন! তিনি সুযোগ পেলেই রাজনীতির পিচে ছক্কা হাঁকাতে ভালোবাসেন। তিনি সোজা গাড়ি থামিয়ে দলবল নিয়ে ঢুকে পড়লেন চন্দ্রকোনা রোডের পুলিশ বিট হাউসে।

বিট হাউসে শুভেন্দুর ‘দাপুটে’ অবস্থান: পুলিশ বিট হাউসের ভেতর প্লাস্টিকের চেয়ার দখল করে বসে শুভেন্দুবাবু যেন এক লহমায় বুঝিয়ে দিলেন, তিনিই এই অঞ্চলের বর্তমান ‘দাদাসাহেব’। বাইরে তখন পুলিশ কর্মীদের কপালে ঘাম—একে তো ভিড়ের সামাল দেওয়া, তার ওপর ঘরের ভেতর স্বয়ং বিরোধী দলনেতা চড়াও। সেখান থেকেই তিনি তাঁর সেই সিগনেচার ডায়ালগ ছুঁড়ে দিলেন: "আরও প্রভাবশালীকে জানান, আমি বসে আছি, উঠব না।"

শুভেন্দুবাবুর এই ‘প্রভাবশালী’ তত্ত্বে নেটিজেনদের একাংশ বেশ মজা পাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, শুভেন্দুবাবু বোধহয় মাঝেমধ্যেই ভুলে যান যে তিনি এখন আর রাজ্যের শাসক দলে নেই, তাই বিরোধীদের কালো পতাকা দেখে তাঁর সেই পুরনো ‘অধিকারী গড়’-এর আধিপত্যের মেজাজ ফিরে আসে। বিট হাউসের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার এই দৃশ্য দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, তিনি যেন পুলিশকে নয়, বরং লাইভ টেলিভিশন ক্যামেরা আর সংবাদমাধ্যমকে বেশি করে নিজের প্রতিবাদটা দেখাতে চাইছিলেন। মেদিনীপুরের এই ভূমিপুত্রের কাছে কোনো থানাই যেন অচেনা নয়, আর তাই ডিউটি অফিসারের চেয়ারের সামনে বসে তাঁর এই ‘ডেলিভারি’ যেন একদম জুতসই লেগেছে।

মেদিনীপুরের ইগো বনাম প্রশাসনিক লড়াই: বিরোধী দলনেতার মূল অভিযোগ—পুলিশ নাকি বিক্ষোভকারীদের জন্য লাল কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছিল। তবে সমালোচকরা একটু বিদ্রুপ করেই বলছেন, শুভেন্দুবাবু যেখানেই যান, সেখানে যদি একটু আধটু বিক্ষোভ না হয়, তবে বোধহয় তাঁর রাজনৈতিক দিনটি ঠিক জমে ওঠে না। কালো পতাকা দেখলে তিনি যতটা না রেগে যান, তার চেয়ে বেশি চনমনে হয়ে ওঠেন প্রশাসনের ‘মুণ্ডুপাত’ করার সুযোগ পেয়ে। তাঁর এই ‘বসে পড়া’র রাজনীতি আসলে জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার এক অতি পুরনো কৌশল, যা তিনি বাম আমলের সেই লড়াকু দিনগুলো থেকেই খুব ভালো রপ্ত করেছেন। তবে তখন তিনি ছিলেন ‘পরিবর্তনের’ সৈনিক, আর আজ তিনি ‘বিরোধী’ পক্ষের প্রধান মুখ।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমানসে প্রভাব: পুরুলিয়ার জনসভার উত্তাপ চন্দ্রকোনা রোডের পুলিশ হাউসে বসে ঠান্ডা করার এই প্রচেষ্টাকে তৃণমূল শিবির ‘রাজনৈতিক গিমিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের স্থানীয় নেতাদের দাবি, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ বুঝতে পেরেই শুভেন্দু এখন থানার আশ্রয়ে লুকোচ্ছেন। অন্যদিকে, শুভেন্দুর অনড় অবস্থান আর ‘প্রভাবশালী’দের উদ্দেশ্যে দেওয়া হুঁশিয়ারি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তিনি সহজে ময়দান ছাড়ার পাত্র নন। তিনি জানেন কীভাবে নিজেকে সংবাদের শিরোনামে রাখতে হয়। বিট হাউসের বাইরের পুলিশ কর্মীরা যখন তাঁকে সনির্বন্ধ অনুরোধ করছিলেন চলে যাওয়ার জন্য, তখন তাঁর সেই রাজকীয় ‘না’ বলাটা ছিল দেখার মতো।

বিক্ষোভ কি এখন নিয়মিত বিনোদন? বাংলার রাজনীতিতে ‘বিক্ষোভ’ এবং ‘পাল্টা অবস্থান’ এখন একটা নিয়মিত বিনোদনের পর্যায়ে চলে গেছে। শুভেন্দুবাবু যখন হুঙ্কার দিয়ে বলেন "প্রভাবশালীকে জানান", তখন রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—এই দুই পক্ষের প্রভাবশালী লড়াইয়ের মাঝে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আর উন্নয়নের ইস্যুগুলো কি কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে? নাকি থানার ভেতরে বসে এই ধরনের ‘বাইট’ দেওয়াই এখনকার রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি? বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর অধিকার যেমন বিক্ষোভের প্রতিবাদ করা, তেমনই সাধারণ মানুষেরও গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে বিক্ষোভ দেখানোর—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে চন্দ্রকোনা রোডের সেই রাতটি কিন্তু বেশ রঙিন হয়ে উঠেছিল।

পরিশেষে বলা যায়, চন্দ্রকোনা রোডের এই বিট হাউস আপাতত শুভেন্দুবাবুর সাময়িক ‘রাজপ্রাসাদ’ হয়ে উঠেছিল। প্রভাবশালীকে খবর দেওয়া হয়েছে কি না জানা নেই, তবে তিনি যে রাজনীতির ময়দানে এখনও অন্যতম বড় ‘পারফর্মার’, তা আবারও প্রমাণিত। রাত বাড়ার সাথে সাথে তিনি যখন কনভয় নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলেন, তখন রাজপথ শান্ত হলেও সোশ্যাল মিডিয়া কিন্তু তাঁর সেই সংলাপে উত্তাল হয়ে রইল। শুভেন্দুবাবু হয়তো বাড়ি ফিরে শান্তিতে ঘুমোলেন, কিন্তু ওই এক সংলাপেই পুলিশের রাতের ঘুম কেড়ে নিলেন তিনি।

📢 এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর আগে পেতে

👉 আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন ⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়

📢 গুরুত্বপূর্ণ খবর মিস করবেন না!

এই ধরনের খবরের আপডেট আগে জানতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত থাকুন

👉 Telegram-এ যুক্ত হোন
⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে

লোড হচ্ছে...