📢 Telegram-এ যুক্ত হন

পদাতিক বাংলা

বাংলা ভাষার প্রিয় কন্টেন্টের ঠিকানা

মুখোশ খুলে ফেললেন ট্রাম্প। আফগানকে শায়েস্তা করতে সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ মহড়া

মুখোশ খুলে ফেললেন ট্রাম্প। আফগানকে শায়েস্তা করতে সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ মহড়া

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অস্থির সময়ের ইঙ্গিত দিয়ে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী শুরু করল তাদের ১৩তম দ্বিপাক্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া— ‘ইনস্পায়ার্‌ড গ্যাম্বিট ২০২৬’ (Inspired Gambit 2026)। একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের এই মাঝামাঝি সময়ে যখন ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে খাইবার-পাখতুনখোয়া এবং পঞ্জাব প্রদেশে মার্কিন বুটের আওয়াজ নয়া দিল্লির জন্য এক নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মহড়াটি কেবল দুই দেশের সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের পরিবর্তিত এবং বিভ্রান্তিকর বিদেশনীতির এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। ১০ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অনুশীলনটি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের খারিয়ার জেলার পাব্বি শহরে অবস্থিত জাতীয় সন্ত্রাস মোকাবিলা কেন্দ্রে (NCTC) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। পাক সেনার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর বা আইএসপিআর (ISPR) অত্যন্ত দম্ভের সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে, এই মহড়া আগামী দুই সপ্তাহ ধরে চলবে এবং এর একটি বিশাল অংশ পরিচালিত হবে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের নওশেরায়। পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের মোকাবিলার রণকৌশল রপ্ত করার অজুহাতে দুই দেশের বিশেষ বাহিনীগুলো এখানে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুশীলন করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘পাকিস্তান-প্রীতি’ এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ ভারত থেকে যখন আমরা এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করি, তখন ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম দ্বিচারিতা দেখে অবাক না হয়ে উপায় থাকে না। ভারত বর্তমানে আমেরিকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও, ট্রাম্প যেভাবে পাকিস্তানকে পুনরায় সামরিক অক্সিজেন দিচ্ছেন, তা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের স্থিতিশীলতাকে সরাসরি আঘাত করছে। ট্রাম্পের এই নীতিকে ভারতবিরোধী এবং সুবিধাবাদী হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ১. ট্রাম্পের ঐতিহাসিক দ্বিচারিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা: আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই টুইট করে বলেছিলেন যে, পাকিস্তান গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকাকে কেবল ‘মিথ্যা এবং প্রতারণা’ উপহার দিয়েছে। অথচ ২০২৬ সালে এসে সেই ট্রাম্পই এখন ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠেছেন। এই যে আমূল পরিবর্তন, এটি কি কেবল কৌশলগত? নাকি ভারতকে চাপে রাখার একটি গূঢ় পরিকল্পনা? ট্রাম্পের এই অস্থিরমতি বিদেশনীতি প্রমাণ করে যে, তিনি দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের চেয়ে সাময়িক ফায়দাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ভারতের মতো একটি নির্ভরযোগ্য গণতান্ত্রিক মিত্রকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা প্রদান করা প্রকারান্তরে ভারতের পিঠে ছুরিকাঘাত করার সমান। ২. সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষককে কেন এই সামরিক মদত? পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং এফএটিএফ (FATF) বারবার সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে। খাইবার-পাখতুনখোয়ার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় মার্কিন সেনার এই উপস্থিতি অত্যন্ত আপত্তিকর। এই সেই অঞ্চল, যেখান থেকে লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ভারতে অনুপ্রবেশের ছক কষে। ‘সন্ত্রাস দমন’ শেখানোর নামে মার্কিন প্রশিক্ষকরা যখন পাক কমান্ডোদের পাহাড়ি যুদ্ধের কৌশল শেখাচ্ছেন, তখন সেই কৌশল যে ভবিষ্যতে ভারতীয় জওয়ানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না—তার গ্যারান্টি কে দেবে? ট্রাম্প প্রশাসন কি এতটাই অন্ধ যে তারা পাকিস্তানের এই ইতিহাস দেখতে পাচ্ছে না? ৩. বানিজ্যিক স্বার্থ বনাম আঞ্চলিক নিরাপত্তা: ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আড়ালে আসলে কাজ করছে মার্কিন অস্ত্র ব্যবসায়ী লবি। পাকিস্তানকে নতুন করে এফ-১৬ (F-16) আধুনিকীকরণ প্যাকেজ প্রদান এবং এই ধরনের ‘ইনস্পায়ার্‌ড গ্যাম্বিট’ মহড়া আয়োজন করে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির পথ প্রশস্ত করছে। কিন্তু এর ফলে ভারতের উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে যে বাড়তি অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে ট্রাম্পের কোনো মাথাব্যথা নেই। এটি ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক চূড়ান্ত অসম্মান। ভারতের সীমান্তের ওপর সরাসরি হুমকি নওশেরা এবং পাব্বি—এই দুটি অঞ্চলই কৌশলগতভাবে ভারতের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। বিশেষ করে নওশেরা অঞ্চলটি আফগানিস্তানের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে মার্কিন নজরদারি যন্ত্রাংশ বা সেন্সর প্রযুক্তির ব্যবহার পাকিস্তানের হাতকে আরও শক্তিশালী করবে। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই মহড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান এমন কিছু গোয়েন্দা তথ্য বা প্রযুক্তিগত সহায়তা পেতে পারে যা তারা ভারতের বিরুদ্ধে গোপন নজরদারিতে ব্যবহার করবে। এছাড়া, আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে পাকিস্তান সেই অঞ্চলকে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধের প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এখন মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানের এই ঘনিষ্ঠতা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোকে এক প্রকার ‘মনস্তাত্ত্বিক জয়’ উপহার দিচ্ছে। তারা মনে করছে, আমেরিকা আবার তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, ফলে তারা এখন আরও নির্ভয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারবে। ট্রাম্পের একগুঁয়েমি ও ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কোয়াড (QUAD) বা আইটুইউটু (I2U2)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ভারত যখন চীনের আগ্রাসন ঠেকাতে আমেরিকার সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তখন ট্রাম্প ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পাকিস্তানের মতো একটি ব্যর্থ এবং সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রকে চাঙ্গা করছেন। এটি আমেরিকার নির্ভরযোগ্যতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প আসলে ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ করতে গিয়ে বড় ভুল করছেন। তিনি একদিকে ভারতের বাজার চান, অন্যদিকে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থানকে ব্যবহার করে আফগান-রুশ অঞ্চলে প্রভাব খাটানো এবং চীনের সাথে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা কমানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইতিহাস বলে, পাকিস্তানকে অস্ত্র দিলে তারা তা সবসময় ভারতের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করেছে। ট্রাম্পের এই অহংকারী বিদেশনীতি প্রকারান্তরে দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির পথই প্রশস্ত করে দিচ্ছে, কারণ ভারত এখন বাধ্য হয়েই তার পুরনো মিত্র রাশিয়ার সাথে সামরিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করার কথা ভাবছে। উপসংহার: ভারতের কঠোর অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে ‘ইনস্পায়ার্‌ড গ্যাম্বিট ২০২৬’ কেবল একটি মহড়া নয়, এটি ভারতের ধৈর্যের পরীক্ষা। ১৬০ কোটি মানুষের দেশকে অবজ্ঞা করে ট্রাম্প যদি পাকিস্তানকে সামরিক আস্কারা দিতে থাকেন, তবে ভারতের উচিত হবে আমেরিকার ওপর থেকে সামরিক নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর হওয়া। ট্রাম্পের এই ‘উপযোগিতা-ভিত্তিক’ বন্ধুত্ব ভারতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। পরিশেষে বলা যায়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর যে চিত্রই তুলে ধরুক না কেন, এই মহড়ার আসল উদ্দেশ্য সন্ত্রাস দমন নয়, বরং আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার। ট্রাম্পের পাকিস্তান-প্রীতি দক্ষিণ এশিয়ায় যে নতুন অশান্তির বীজ বপন করল, তার ফল আগামীতে পুরো বিশ্বকে ভোগ করতে হতে পারে। ভারতের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা চলবে না এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রাম্পের এই বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি।

📢 এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর আগে পেতে

👉 আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন ⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়

📢 গুরুত্বপূর্ণ খবর মিস করবেন না!

এই ধরনের খবরের আপডেট আগে জানতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত থাকুন

👉 Telegram-এ যুক্ত হোন
⚠️ সম্পূর্ণ খবর শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে

লোড হচ্ছে...