যোগীরাজ্যে প্রশাসনিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এক মহিলা আইএএস আধিকারিককে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর সরকারি আবাসন থেকেই চলত বেআইনি কর্মকাণ্ড। পুলিশি অভিযানে ওই আবাসন থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক আপত্তিকর সামগ্রী। পাশাপাশি, সেখানে একটি সংগঠিত মধুচক্র পরিচালিত হচ্ছিল বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ওই সরকারি আবাসন থেকে একাধিক সন্দেহজনক ও আপত্তিকর সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সেখানে নিয়মিতভাবেই বেআইনি কার্যকলাপ চলত বলে অনুমান।
এই ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলার এক যুবতীও রয়েছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ধৃতদের জেরা করলে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও একাধিক নাম সামনে আসতে পারে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, পুরো ঘটনার পিছনে কোনও বৃহৎ ও সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধুচক্রের আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের মাধ্যম এবং সম্ভাব্য প্রভাবশালী সংযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে, অভিযুক্ত মহিলা আইএএস আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। সরকারি পদে থেকে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় পুরো ঘটনার উপর নজর রাখছে ঊর্ধ্বতন প্রশাসন। তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে কোনওভাবেই প্রভাবিত না হয়, সে কারণেই আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছে সংশ্লিষ্ট দফতর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যোগীরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি আধিকারিকদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।