দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও প্রশাসনিক অবহেলার প্রতিবাদে ফের আন্দোলনের উত্তাপে ফুটছে অধিকৃত কাশ্মীর। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে যে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তার নেতৃত্বে বিশেষভাবে উঠে এসেছে Gen-Z প্রজন্ম। রাস্তায় নেমে তারা সরাসরি প্রশ্ন তুলছে শাসনব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
সংবাদসূত্রে জানা গিয়েছে, পাক সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধেই এই আন্দোলনের মূল সুর। বিদ্যুৎ, জল, খাদ্য ও কর্মসংস্থানের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র আকার নিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পড়ুয়া, যুবসমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলেই একযোগে পথে নামতে বাধ্য হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একাধিক এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান তোলে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ উগরে দেয়। কোথাও কোথাও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছে আন্দোলনকারীদের।

এই আন্দোলনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো Gen-Z প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে তারা দ্রুত সংগঠিত হচ্ছে, নিজেদের বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রজন্ম আর নীরব থাকতে রাজি নয়—তারা সরাসরি শাসনব্যবস্থার জবাব চাইছে।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে একাধিক জায়গায় পাক প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরও মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সরকারি তরফে পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ক্রমশ বাড়তে থাকা এই আন্দোলন পাকিস্তান সরকারের জন্য নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা।
সব মিলিয়ে অধিকৃত কাশ্মীরে ফের বিদ্রোহের সুর স্পষ্ট। Gen-Z-র নেতৃত্বে এই আন্দোলন কতদূর গড়ায় এবং পাক সরকার কীভাবে এর মোকাবিলা করে— সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।